আমাদের এই বহমান সময়ে আমরা আসলে কে?


আমাদের এই বহমান সময়ে আমরা আসলে কে? এই যে আমাদের চেতনা, সবার থেকে আলাদা হবার এই যে প্রেরণা, কেন? কেউ মালা কেউ তসবি গলে তাইতে তো জাত ভিন্ন বলে -বলেছিলেন লালন। আবার সিলেটী কবি হাসন রাজা বড় আক্ষেপ করে বলে গেলেন "কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যের ও মাঝার।" এই যে আমাদের অস্তিত্ব, বহমান সময়ে খানিকক্ষণ টিকে থাকা, আসলেই কি আমাদের অস্তিত্ব এর কোন মহান মানে আছে? মানুষের এই চিরন্তন হতাশা দূর করতেই যুগে যুগে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আরোপিত মতবাদ। আর অস্তিত্ব সংকটে ভোগা বুদ্ধিমান মানুষ আঁকড়ে ধরেছে সেইসব মতবাদ কে নিজের সিমাহীন হতাশা দূর করার তাগিদেই। দুনিয়ার বুকে হতাশ আর lঅস্তিত্ব সংকটে ভোগা মানুষের জন্য খুবই চমৎকার একটা মতবাদ হচ্ছে ধর্মীয় মতবাদ। এখানে মানুষ কে অমর করে রাখবার লোভ দেখানো হয়, বলা হয় একবার মাত্র মৃত্যু হবে আর তারপর আছে অনন্তকালের জিবন যার কোন শেষ নাই। এই একটা কথাই মনে হয় আব্রাহামিক ধর্ম গুলো পৃথিবী ব্যাপি ছড়িয়ে পড়ার মূল কারন। মানুষ অবচেতনেই তার নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় অনন্তকাল, যখন ধর্ম তার আধ্যাত্মিকতার বানী নিয়ে আর্বিভূত হলো তখনই মানুষ পেল সপ্ন নিয়ে বেচে থাকার মত অবলম্বন। একজন ঈশ্বর বিশ্বাস করা মানুষ জানে যে সে টিকে থাকবে অনন্তকাল, তা দোযখ অথবা বেহেশত যাই হোক না কেন, ফলে সে নিজের অভ্যান্তরে টের পায় অস্তিত্বহীনতার সংকট থেকে মুক্তি। আর মানুষের এই এই অলিক স্বস্তি প্রকারান্তরে পৃথিবীর টিকে থাকা মানুষের জন্য বড় হুমকি। আমরা জানি আমরা মানুষেরা এই সবুজ গ্রহেই বেচে থাকবো হয়তো আরো লক্ষ বছর কিংবা তারো কম, আমাদের প্রজাতি কে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই আমাদের আরো বেশি সচেতন পদচারণ দরকার এই পৃথিবীর বুকে। কিন্তু বক ধার্মিক মানুষেরা মানে যে এই পৃথিবীর বাইরেও তাদের জন্য রয়েছে সীমাহীন সময়ের এক বাসস্থান, তাই এই সবুজ গ্রহ কে টিকিয়ে রাখার দায়ভার তাদের নেই, তারা শুধু এই টুকুই কামনা করে তাদের স্বমতবাদ প্রতিষ্ঠিত হোক পৃথিবী ব্যাপি আর পৃথিবীর মানুষেরা তাদের মতই স্বপ্নে বাঁচুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নাজমুল আহসান রাজু নামক এক ছাগ শিশু ও সংগ্রাম পত্রিকা

আবার আমরা মানুষ হই