পোস্টগুলি

আত্ম অনুসন্ধান পর্ব ১

ছবি
  আমরা কেন আধ্যাত্মিক প্রাণী? কারণ আমরা চিন্তা করতে পারি। চিন্তার এই দায় থেকেই আসে চরম সত্যের নিকট পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু দরিদ্র দেশগুলোতে আমাদের ভেতরের এই সচেতনতা অর্জনের আগেই আমরা পেটের দায়ে নষ্ট হতে থাকি। তখন আমাদের চিন্তার ভার কাঁধে তুলে নেয় মোল্লা-পুরোহিত গোষ্ঠী। তাঁদের দৃষ্টিতে আমরা তখন হয়ে উঠি বোধশূন্য, দুনিয়াকামী এক ধরনের মানুষরূপী পশু। তাই তাঁরা রূপক আর বয়ানের আশ্রয়ে আমাদের মুক্তি কামনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন এবং নিজেদের দুনিয়াবী ফায়দা অর্জন করতে থাকেন। তবে তাঁরা বুঝতে পারেন না যে, ওই প্রলেতারিয়েত মানুষগুলো ঠিক কতটা এগিয়ে গেল। ফলে তাঁরা আধ্যাত্মিক গুরু হয়ে ওঠার বদলে যখন ওই দুনিয়াকামী মানুষের কাতারে শামিল হতে থাকেন, তখন কখনো কখনো তাঁদের ভেতরে ঈশ্বর বিদ্যুৎচমকের মতো এক চিলতে আলো ফেলে যান। তখন কেউ কেউ হুংকার দিয়ে লাইব্রেরি পোড়াতে চায়, আবার কেউ বলে, "ধুর! চল সব ছেড়ে-ছুঁড়ে হিমালয়ে চলে যাই।" আখেরে কেউ বুঝে উঠতে পারে না কী করা উচিত। তখন তাঁরা নেগেটিভ মার্কেটিং পলিসি ফলো করে এক হুজুর আরেক হুজুরের, এক গুরু আরেক গুরুর বদনাম করতে থাকেন এবং ধর্মগ্রন্থ ঘেঁটে এমন সব উদ্ধৃতি দিতে থাক...

বাস্টার্ড

বাস্টার্ড ! কে সে , আহ কি সুন্দর একটা শব্দ বাস্টার্ড ! এই শব্দের মানে কি বেজন্মা ? আহ কি ভুল শব্দ মানুষ কি বেজন্মা হতে পারে ? মানুষ হতে হলে তাকে তো জন্ম নিতেই হয় ,সে কেন তবে বেজন্মা ...

জিহাদ অথবা ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা

রোদ জ্বলা খাঁ খাঁ দুপুর ,আর ঠিক সেই সময় তিব্র পানির পিপাসা পেলে তমিজের মনে পড়ে যায় ভেজা ভেজা একজোড়া ঠোঁটের কথা ,আর সেই সাথে কালো তিব্র গভীর চোখের কথা মনে পড়তেই তমিজ দেখতে পায় সমুখে ভেসে চলে বড় গাঙের তিব্র চকচকে পানি ,আর তমিজের বড় বেশি পিপাসা পেতে থাকে ,পানি অথবা নারী অথবা একটা তিব্র চুমুর । আর তমিজ চারপাশে খাঁ খাঁ শূন্যতার তেজে বড় বেশি বিষন্ন আর কিছুটা বেচাইন হয়ে পড়ে আর তার মনে পড়তে থাকে সালেহার কোমড়ের ভাঁজের কথা , আর শরীরের ক্ষতে একটা নীল মাছি এসে বসলে তার মনে পড়তে থাকে যে পাঁজরের পাশ ঘেঁষে বিঁধে আছে এক টুকরো তীক্ষ্ণ ইস্পাত । বোমা টা ফাটার মুহূর্তে সে সরে পড়তে চেয়েছিল ,জীবন থেকে নয় পুলিশের নজরের আঁচ থেকে । অথচ এই খাঁ খাঁ রোদের উত্তাপে অনেক দূরে আকাশের সীমানায় কিছু একটা উড়তে দেখে সে ,আর তমিজের মনে পরে বড় মসজিদের গোরা ঈমামের কথা ,তার টকটকে ফর্সা মুখে কুচকুচে দাড়ি একেবারে সাদা চামড়ার বিদেশিদের মত লাগত তাই গ্রামের লোকে তার নাম দিয়েছিল গোরা ঈমাম । তার লাশ তিনদিন পড়ে ছিল বড় গাঙের ধারে ,আর তার বুকের উপর একটা ধুসর শকুন বড় বেশি বিষন্ন ভঙ্গিতে শুষে নিচ্ছিল রোদের ওম অথচ সেই লাশে একটা ঠোকর ও ...

টুকে রাখা পঙক্তি

আমরা জীবনের গভীরে আরো কতিপয় জীবন দেখি ফেলি ,আর আমরা দেখি যে যাপনের গভীরে লুকিয়ে আছে এক নৈসর্গিক বিষণ্নতা আর আমরা যাপনের গভীরতর প্রান্তে দাঁড়িয়ে খুব গোপনে দেখে ফেলি জীবনের অনন্ত সার্কাস ,আর আমাদের মনে পড়ে যে আমরা কাব্য এবং নারী সমীপে নিজেকে নিবেদন করা ছাড়া আর কোন মহৎ মানে খুঁজে পাইনা । আর আমাদের তৈরি করে নিতে হয় নিজস্ব দৃশ্যপট ,আর আমরা দেখি যে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা গা থেকে জল ঝড়িয়ে নেমে আসে শুকনো ডাঙায় ,আর আমরা সেইসব দৃশ্যে শব্দ বসাতে ব্যার্থ হয়ে জীবনের দিকে মুখ রেখে নিদারুন আবৃতি করি আরো কতিপয় জীবন

তসলিমা ও আমাদের চুল্কানি

পুলিশ পাহারায় চুমা চুমি চলতেছে কি? কেউ তো আপডেট দিচ্ছে না, এর মাঝে একজন বন্ধু মানুষ তসলিমা নাসরিনের স্ট্যাটাস ইনবক্সে শেয়ার করলেন, তসলিমা নাসরিন কি লিখেছে আমি জানিনা বন্...
আর এইসব রাতে আমাদের চারপাশে যখন গহিন অন্ধকার , সেইসব সময়ে আমরা বড় বেশি বীষ পুষে রাখি অভ্যান্তরে আর আমাদের মনে পড়ে যে আমরা কাটিয়ে এসেছি পুরোটা মহাকাল , যখন আকাশের ওপারে একটা বিন্দু ছড়িয়ে পড়েছিল তখন ও আমি মিশে ছিলাম সিমাহীন গহীন অন্ধকারে , আর তারপর কেটেছে কতটা কাল আর আমি বিপর্যস্ত পরিব্রাজক ! আর আমাদের ছিল না রাস্তা খুঁজে ঘরে ফেরার তাড়া , আর আমরা গহীন অন্ধকারে এসে ভিড়েছিলাম নীল এক গ্রহে ,যেখানে আমরা ভেজা গায়ে উঠে পড়েছিলাম সৈকতে ! তারপর কেটেছে আরো কতটা কাল আমরা হাটতে হাটতে ক্রমশ কেটেছে ঘোর ! তারপর আমরা নাগরিক জঞ্জালে খুড়েছি মাথা আর আমরা ক্রমশ কংক্রীটের দেয়াল তুলে ক্রমশ ঢাকতে চেয়েছি তীব্র বিষন্নতা আর যুগান্তের বয়ে চলা সময়ের অভিশাপ ! আর আমরা আখেরে ফিরে যেতে সেইসব অন্ধকারে আর আমরা আপাতত এই ক্লান্ত অস্তিত্বটুকু ভুলে যেতে চাই !
আর সেইসব নারী গন বলে যে আমরা কতিপয় মানুষী অতঃপর নারী হয়ে উঠি আর ক্রমশ আমরা যাপন করি নামানুষী জীবন, আর চার দেয়ালের অভ্যান্তরে কেটে যায় পুরোটা যাপন, আর তারা এইসব নাগরিক টানাপোড়েন এড়িয়ে একটা হাসের মতই ভেসে থাকে আর বছর ঘুরতেই বিয়োতে থাকে নতুন জীবন।