তসলিমা ও আমাদের চুল্কানি

পুলিশ পাহারায় চুমা চুমি চলতেছে কি? কেউ তো আপডেট দিচ্ছে না, এর মাঝে একজন বন্ধু মানুষ তসলিমা নাসরিনের স্ট্যাটাস ইনবক্সে শেয়ার করলেন, তসলিমা নাসরিন কি লিখেছে আমি জানিনা বন্ধু শেয়ার করিলেন //"তিরিশ বছর আগে আমি আমার প্রেমিককে রাস্তায়, রেস্তোরাঁয় চুমু খেয়েছিলাম বাংলাদেশের মতো দেশে। ইউরোপের দেশগুলোয় হাটে মাঠে ঘাটে ইউরোপিয়ান প্রেমিককে তো চুমু খেয়েছিই, ঘোর পূর্ণিমা-রাতে সেক্স করেছি নির্জন সমুদ্রপাড়ে, করেছি চাঁদের আলোয় স্নান করতে থাকা নিবিড় অরণ্যে। সেক্স সবসময়ই খুব সুন্দর। নারী-পুরুষের, নারী-নারীর, পুরুষ-পুরুষের, ট্রান্সজেন্ডারের, কুইয়ারের। অ্যানিমেলদের কাছে, বিশেষ করে বনোবোদের কাছ থেকে শেখা উচিত সেক্স নিয়ে কী করে উৎসব করতে হয়। বনোবোরা সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় প্রাণী। কারণ তারা কলহ কোন্দল মিটিয়ে নেয় সেক্স করেই। বনোবোদের সঙ্গে মানুষের ডিএনএ'র সবচেয়ে বেশি মিল। আমি বুঝিনা বাইরে জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে পৃথিবী, আর মানুষ কি না চারদেয়ালের ভেতর দরজায় খিল এঁটে সঙ্গম করে। প্রকৃতির কাছ থেকে মানুষ অনেক দূরে সরে গেছে, আর কত দূরে সরবে! মানুষগুলো দিন দিন দুপেয়ে রবোট হয়ে উঠছে। আসলে সঙ্গমগুলোও আর সঙ্গম নেই। সব যেন ধর্ষণ হয়ে উঠছে। ভালোবাসাও হয়ে উঠছে ঈর্ষা।" // সত্যি কথা বলতে কি তার কথা গুলো আমার খুব ভালো লেগেছে, আসলেই তো সেক্স আমরা সবাই করি, প্রজাতি টিকিয়ে রাখার সাথে সাথে এটা একটা বিনোদন ও বটে, কিন্তু আমাদের দেশে সেক্স এখনো ট্যাবু, এক জন আরেক জনের প্রতি তিব্র আকৃষ্ট তায় যৌনতার যে তিব্র মজা পাওয়া যায় সে সম্পর্কে আমরা অবগত আছি, তার কথা গুলো সুন্দর যদিও সভ্য মানুষ হিসেবে নিজেকে দাবি করার দরুন উন্মুক্ত স্থানে সেক্স করতে আমি পারব না, তবে যেখানে নিরিবিলির গ্যারান্টি আছে সেখানের কথা আলাদা। তসলিমার কপাল খারাপ তাই তার সব কথাই নেগেটিভ ভাবে প্রচারিত হয়, তসলিমার দোষ সে কোন কথা গোপন করে না, সে তার সমস্ত কথা অকপটে বলে দিতে পারে, সাহিত্যিক হিসেবে সে কেমন তা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে কিন্তু তাকে একজন মুক্তচিন্তক বলে অভিহিত করা যায় নিশ্চিত আর তার বেশ কিছু কবিতা সত্যিকারের কবিতা পড়ার মজা দিয়েছিল আমাকে, আমি বুঝিনা কিছু মানুষের তাকে নিয়ে এত চুল্কানি কেন? সে নারি বলেই? সেদিন একজনের স্টাটাস দেখলাম তিনি বলেছেন সবার আগে আমাদের ইগ্নোর করা শিখতে হবে সম্ভবত শুভ্র এর প্রোফাইলে দেখেছিলাম, আসলেই বাংগালির বড় বেশি নাক গলানো স্বভাব, অপরে কি করছে তা জানতে আমরা যেন মুখিয়ে থাকি, আমরা আসলে বুঝিনা কোন জিনিস টা আমাদের এড়িয়ে যাওয়া উচিত আর কোনটাকে সমালোচনা করা উচিত, আর দশ টা বংগ রমনির মত তসলিমা নাসরিন ও নিজেকে চেপে রাখতো যদি তার স্বাধিনতা আপনারা কেড়ে না নিতেন তাকে দেশ ছাড়া না করতেন তবে আজো সে মধ্যম সারির একজন সাহিত্যিক হিসেবেই টিকে থাকতো। সেসব বন্ধুগন বাংলাদেশে নাস্তিক্য বাদ আর তসলিমা কে এক করে গুলিয়ে ফেলেন তাদের কে বলতে চাই তিনি বাংলাদেশের নাস্তিক্য বাদের ব্রান্ড এম্বাসেডর না, তিনি একজন নারিবাদি লেখক মাত্র, আর নাস্তিক্য বাদ একটা দর্শন, তিনি এই দর্শনের অনুসারী মাত্র সুতরাং নাস্তিক্য বিষয়ে আলোচনাতে তসলিমা বিষয়ক ত্যানা প্যাঁচানো ঠিক না। সে যদি সেক্স করে মজা পায় এটা একান্ত তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমাদের এই বহমান সময়ে আমরা আসলে কে?

নাজমুল আহসান রাজু নামক এক ছাগ শিশু ও সংগ্রাম পত্রিকা

আবার আমরা মানুষ হই