আজ কদিন ধরেই ভাববার চেষ্টা করছিলাম চিন্তা কি ? মননশীল চিন্তাই বা কাকে বলে ? কিন্তু চিন্তা করা নিয়ে আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই , সাহিত্যে আমার পড়াশোনা খুবই অপ্রতুল যা পড়েছি সবই হরর অথবা ফিকশন , তাই সেভাবে কখনোই মনের ভেতর চিন্তার দর্শন টাকে স্থান দিতে পারিনি ,হ্যা প্রচুর ভাব নিয়ে নিজেকে চিন্তক প্রমানের হাস্যকর চেষ্টা হয়ত করেছি , কিন্তু তারপরেই আসন্ন ভোরে দু টুকরো রুটি সংগ্রহের চিন্তায় ভূলে গেছি সব , আচ্ছা একটা ব্যাপার কি কেউ খেয়াল করেছেন ? আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে সৃজনশীল সাহিত্য অথবা দার্শনিক চিন্তা বা গবেষনা আশংকা জনক ভাবে কম , বেশির ভাগ মানুষই সাময়িক আবেগে কিছুক্ষনের জন্য জ্বলে উঠলেও তারপর আবার দীর্ঘদিনের জন্য শীত নিদ্রায় যেতে হয় এর একমাত্র কারন হতে পারে আর্থিক নিরাপত্তার অভাব , আমাকে রাতদিন শুধু অর্থোপার্জনের চিন্তা করতে হচ্ছে তাই আমি আমার সন্তান কে অর্থোপার্জনের উপযোগী করে মানুষ করছি , তার ভেতরে সৌন্দর্য উদারতা প্রকৃতির প্রতি আবেগ এইসব ব্যাপার গুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছি যেমনেই হোক অর্থোপার্জন করে বেচে থাকতে হবে , ঠিক আমাদের শাসক গোষ্ঠিও এই চিন্তাহীন বোধহীন জনগোষ্ঠি তৈরিতে বেশ আগ্রহী বলা যায় , কারন কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় তারা ইচ্ছাকৃত দারিদ্র জিইয়ে রাখে , স্কুল কলেজে পাঠ্য পুস্তক ও ঠিক এমন ভাবে তৈরি ওথেকে আর যাই হোক সঠিক চিন্তা করার মত মাল মশলা যোগাড় করা যায় না , সরকার রেসিডেন্স এড়িয়া তৈরি করে যেখানে বাস করে ধনিরা সেই সব জায়গায় সাহিত্য , কবিতা , চিন্তার বিশূদ্ধতা নিয়ে খুব গবেষনা হয় সেখানেও সরকারও পৃষ্ঠপোষক থাকে বটে , এবং আমাদের মিডিয়াই তাদের চিন্তা ও দর্শন ই প্রচার যোগ্য , তারাই আমাদের ঠিক করে দিচ্ছে আমরা কি পড়বো কি চিন্তা করবো , তারা কেউ কেউ শ্রমিকের জন্য মায়াকান্না করে কেউ বা করে কৃষকের জন্য , কিন্তু একজন শ্রমিক অথবা কৃষক কি চিন্তা করছে আদৌ সে চিন্তা করার ফুরসত পাচ্ছে কি না তা কিন্তু কেউ শুনছেও না কেউ দেখছেও না , এই সুযোগে ধর্ম কিন্তু তার কাজ ঠিক করে যাচ্ছে , ধর্ম তার মতবাদে এই সব খেটে খাওয়া মানুষ কে মুক্তি দিতে সহজ পথে হেটে তাদের কে পরকালে ভোগের লোভ দেখিয়ে , আর দুনিয়ার সময়টাকে পরিক্ষাক্ষেত্র আক্ষ্যা দিয়ে তাদের চিন্তার হাত থেকে মুক্তি দিচ্ছে , তাদের সমস্ত চিন্তা দুয়েকজন আখের গোছানো মুফতি মওলানার হাতে তুলে দিয়ে তারা নিশ্চিন্তে ঘুমুতে যাচ্ছে !
জাতী হিসেবে আমরা যে কত দৈন্য কত ফাপা হয়ে যাচ্ছি তা আশপাশে চোখ বুলিয়ে দেখলে আপনিও বুঝবেন , কিশোর তরুন যারা আপনার চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের চোখ গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন তো ওরা নতুন মডেলের মোবাইল চিনে , বাইক চিনে কিন্তু তার ঘরের পিছনে পাঠাগার টা সে চিনে না , সে পাঠ্য বইয়ে কবিতা মূখস্ত করে কিন্তু একটা কবিতা লেখার ইচ্ছে বা ওই কবিতাটা নিয়ে ভাবতে তার ইচ্ছে করে না সে নোটবই দেখে কবিতার সারমর্ম মুখস্ত করে (আমার কৈশোরে আমি তাই করেছি ) তবে কিভাবে এই জাত টাকে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড় করানো যায় ? আমরা কোনরকম পেট ভরলেই খুশি , আর সংরক্ষিত এলাকায় থাকা পেটি বুদ্ধীজীবীরা আমাদের গরীব বানিয়ে রেখেই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায়
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন