আমি এবং আমার অবিশ্বাস (১ম পর্ব )

বহুদিন কিছু লিখি না , লেখার মত মানসিকতা ও নেই , চারিদিকে এত এত ঝামেলা , জীবন বাচাতে অহোরাত্র পরিশ্রম , যাক সব বাদ আজকে আমার নিজের গল্প বলি আমি মাঝে মাঝে ভাবি এই যে ঈশ্বরে অবিশ্বাস , বা নাস্তিকতা কেমনে আসলো আমার ভিতরে আমার ত হবার কথা একজন বিশাল মাওলানা ,হ্যাঁ আমার লেখাপড়া শুরু হইছিল মাদ্রাসায় , ৩ বছর আমি মাদ্রাসায় পরছি তারপর দাদু জোর করে স্কুলে ভর্তি করে দিল , স্কুলের সাথেই ছিল মসজিদ আমি সেই ১০-১১ বছর বয়েসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম , মাদ্রাসাই পড়ার জের আমার ভিতরে ছিলই যখন হাই স্কুলে ভর্তি হলাম তখনও আমি নামাজ কখনও বাদ দেয় নাই , ৮ম শ্রেণিতে পড়ার সময় খুব সম্ভবত প্রথম পাবলিক লাইব্রেরিতে যাওয়া শুরু করি , তার আগে কোরআন এবং হাদিস ছাড়া অন্য কোন বই পড়ার সুযোগ পাই নি , আমাদের বাড়িতে ও বার আওলিয়ার কাহিনি , আর কোরানের কিছু তাফসির ছাড়া কিছুই ছিল না । যেদিন থেকে পাবলিক লাইব্রেরিতে যাওয়া শুরু সেদিন যেন আমার সামনে দুনিয়ার একটা অজানা দুয়ার খুলে গেল ৯-৫ টা স্কুল আর তারপর রাত ৮ টা পর্যন্ত লাইব্রেরিতে কাটিয়ে দিতাম , মুলত কিশোর সাহিত্য পড়তাম সেইসময় , আহ কি মুগ্ধতা বইয়ের গন্ধ আমাকে পাগল করে দিত , আর ছিল রিকশা ভাড়া বাঁচিয়ে মাসুদ রানা কেনা , আর তারপর এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলা , মুলত এস এস সি র আগ পর্যন্ত শুধু পরে গেছি , হাতের কাছে যা ছিল তাই পরছি , এরপর পরিক্ষার পর আব্বু গ্রামে বাড়ি করল ছোট মফস্বল শহর ছেঁড়ে গ্রামে গিয়ে আমার তো দম বন্ধ হবার দশা , দৈনিক পত্রিকা পড়ার ও কোন সুযোগ ছিল না , ৩ দিনের বাসি পত্রিকা পড়তে হত , তাও থানা সদরে গিয়ে কিনে আনতাম , পয়সা দিয়ে কিনে পত্রিকা পড়ে এইটা গ্রামের লোক ভাবতেই পারত না , আমার হাতে পত্রিকা নিয়ে বাস থেকে নামতে দেখলেই ছেলে বুড়ো সবাই দাত কেলাত আর আমাকে শহরের বান্দর কইয়া খেপাত , আমিও কারো সাথে মিশতে পারি নি বেশ কিছুদিন ওদের কে আমার ভিনগ্রহের লোক মনে হত , আসলে গ্রামে প্যান্ট পড়া লোক দেখলেই পর পর লাগে আপন করে নেয়া যাই না শুরু করলাম লুঙ্গি পরা , আর ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া , এইবার আমি তাদের চোখে ভাল এবং আপন হইলাম , মুখে মুখে সবার সাথে মিশতাম কিন্তু ভিতরে আমি প্রচণ্ড একা ছিলাম , হ্যাঁ নামাজ পড়তে তখনও আমার খুব ভাল লাগত , তবে মাঝে মাঝে খটকা ও লাগতো , তবে প্রস্নহিন বিশ্বাস না করলে মুক্তি নেই এই কথা মেনে সব প্রস্ন ভেতরেই রেখে দিতাম , আমার বাসায় তাফসিরে মারেফুল কোরান নামে কোরানের একটা তাফসির গ্রন্থ ছিল বইয়ের অভাবে ওইটাই হয়ে গেল আমার সময় কাটানোর সেরা জিনিস , আমি পড়তে শুরু করলাম একেবারে খাতা কলম নিয়ে প্রতিদিন চার পাঁচ পাতা পড়তাম আর নিজের মত করে লিখে রাখতাম আমার মতামত । এর মাঝে কলেজে ভর্তি হলাম কলেজ লাইব্রেরির অল্প কিছু বই প্রথম বর্ষেই শেষ করে ফেললাম , তারপর আবার ফিরে আসতে হল ওই একমাত্র বইয়ের কাছে , গোটা তিন বার পড়ে শেষ করার পর আমি একেবারে নিশ্চিত হইলাম এই বই কোন ভাবেই একজন মহা খমতাধর ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা কোন ঈশ্বরের লেখা হতে পারে না , আর সমস্ত বিজ্ঞানের আধার কোরান এটা ও হতে পারে না । সেই খাতা আব্বু পুড়িয়ে ফেলসে কিন্তু যে কারন গুলো লিখছিলাম তার কয়েকটা মনে হয় এইরকম ছিল
সম্পূর্ণ কোরান নাকি লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল সেখান থেকে প্রয়োজন মত নাজিল হইছে , এখন আমার প্রশ্ন একটা লিখিত কিতাব এতটা অস্পষ্ট আর ভাসা ভাসা কথার উপর লেখা কেন ? আদেশ নিষেধ গুলো সরাসরি কি বলা যেত না , আর তার সংরক্ষণের জন্য আস্ত কিতাব টাই পাঠিয়ে দেওয়া যেত , আর নবি কইটা বিয়া করবে ,কখন যুদ্ধ করতে হবে , পূরানো কিছু কেচ্ছা কাহিনি এইসব অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বস্তু কোরানে কেন? এইটা যদি সত্যি মানুষের হেদায়েতের জন্য হত তবে এটা সাধারন মানুষের বোঝার মত করে সকল ভাষাই নাজিল হত , কিন্তু শুধু আরব বেদুইন দের কাছেই তা তাদের ভাষাই নাজিল হল এবং মোহাম্মদের যৌন লালসা ও যুদ্ধ জয়ের লোভ ইত্যাদিতে ভরপুর , পুরুষ দের কে পরপারে জান্নাত আর নারীর লোভ দেখানো হল আর মেয়েরা তাদের জন্য পরকালে কোন সুখের কোন বর্ণনাই নেই এর কারন কি এই যে মেয়েরা তো যুদ্ধ করবে না তাই তাদের লোভ দেখানোর কিছু নেই ? কোরানে কমন জেন্ডার বা হিজরাদের নিয়ে কোন কথায় নেই তবে আল্লাহ কি হিজরাদের সম্পর্কে অবগত ছিল না ?
ইহ জগতে মদ খাওয়া হারাম সেই মদ ই আবার পরজগতে হালাল হইল কেমনে ? জান্নাতে মানুষ যা চাবে তাই পাবে তাকে কোন পরিশ্রম করতে হবে না , এবং সেখানে সে অনন্ত কাল থাকবে এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে অনন্ত কাল কমবিহিন আলস্য সে কি খুব সুখ ? আমার তো মনে হয় না , শ্রম ছাড়া খাদ্য খেয়ে সুখ কি ? আর উদ্ভিন্ন যৌবনা হুর দের সাথে সহবাস ছাড়া আর কি কোন কাজ থাকবে না , প্রেম ব্যাপার তা আল্লার জানা নেই ? একজন মুমিন কে চারটা পর্যন্ত বিয়ের অনুমুতি দেয়া হল এবং নবিকে তার ইচ্ছা মত , অথচ নারী তিন স্ত্রি ওয়ালা স্বামীর ঘর করবে কিনা সে কথা ভাবার প্রয়োজন মনে করল না কথিত দয়াবান ঈশ্বর ? এমন কি একজন ৫২ বছরের বৃদ্ধ ৬ বছরের বালিকা কে বিয়ে করবে সেটা ও দয়াবান ঈশ্বর তার কিতাবে লিখে দিলেন ?
আমি নামাজ পড়তাম কিন্তু ওই যে সন্দেহ কেউ কি আছে ? আসলেই আছে ? কিতাব তো আমি নিশ্চিত ঐশ্বরিক বানি না , কিন্তু একজন সৃষ্টি কর্তা কি থাকা উচিত না ? আবার এটা ও ভাবলাম দুনিয়ার সব সৃষ্টি নাকি মানুষের জন্য তবে এই যে পৃথিবীর বাইরে লক্ষ লক্ষ গ্রহ নক্ষত্র এই যে অসিম স্পেস , তার তুলনায় পৃথিবী তো সাগরতীরে এক কনা বালির সমতুল্য আর সেই এক কনা বালিতে জন্ম নেয়া মানুষের জন্য ঈশ্বরের এত তোরজোড় ? না বিশ্বাস তো হতে চায় না , আসলে কি ধর্ম গুলো বিশ্বাসের প্রলেপ দিয়ে মানুষের স্বার্থ পুরনের হাতিয়ার ? নাকি গরিবের অক্ষমাতার দায় ঈশ্বর নামক এক জীবের কাধে চাপিয়ে ক্ষণিকের স্বস্তি ? এক নির্বোধ আনন্দ , অথবা নিজেকে ভুলে থাকার আনন্দ ঈশ্বর কল্পনাই সময় কাটিয়ে নিজেকে ভুলে থাকা , নিজেকে ছোট করা এই তো ? যুগে যুগে ধর্ম রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধিতেই কাজে লাগছে ।
৯ জুলাই, ২০১৩, মঙ্গলবার

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমাদের এই বহমান সময়ে আমরা আসলে কে?

নাজমুল আহসান রাজু নামক এক ছাগ শিশু ও সংগ্রাম পত্রিকা

আবার আমরা মানুষ হই