আর এইসব রাতে আমাদের চারপাশে যখন গহিন অন্ধকার , সেইসব সময়ে আমরা বড় বেশি বীষ পুষে রাখি অভ্যান্তরে আর আমাদের মনে পড়ে যে আমরা কাটিয়ে এসেছি পুরোটা মহাকাল , যখন আকাশের ওপারে একটা বিন্দু ছড়িয়ে পড়েছিল তখন ও আমি মিশে ছিলাম সিমাহীন গহীন অন্ধকারে , আর তারপর কেটেছে কতটা কাল আর আমি বিপর্যস্ত পরিব্রাজক ! আর আমাদের ছিল না রাস্তা খুঁজে ঘরে ফেরার তাড়া , আর আমরা গহীন অন্ধকারে এসে ভিড়েছিলাম নীল এক গ্রহে ,যেখানে আমরা ভেজা গায়ে উঠে পড়েছিলাম সৈকতে ! তারপর কেটেছে আরো কতটা কাল আমরা হাটতে হাটতে ক্রমশ কেটেছে ঘোর ! তারপর আমরা নাগরিক জঞ্জালে খুড়েছি মাথা আর আমরা ক্রমশ কংক্রীটের দেয়াল তুলে ক্রমশ ঢাকতে চেয়েছি তীব্র বিষন্নতা আর যুগান্তের বয়ে চলা সময়ের অভিশাপ ! আর আমরা আখেরে ফিরে যেতে সেইসব অন্ধকারে আর আমরা আপাতত এই ক্লান্ত অস্তিত্বটুকু ভুলে যেতে চাই !
পোস্টগুলি
আমাদের এই বহমান সময়ে আমরা আসলে কে?
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আমাদের এই বহমান সময়ে আমরা আসলে কে? এই যে আমাদের চেতনা, সবার থেকে আলাদা হবার এই যে প্রেরণা, কেন? কেউ মালা কেউ তসবি গলে তাইতে তো জাত ভিন্ন বলে -বলেছিলেন লালন। আবার সিলেটী কবি হাসন রাজা বড় আক্ষেপ করে বলে গেলেন "কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যের ও মাঝার।" এই যে আমাদের অস্তিত্ব, বহমান সময়ে খানিকক্ষণ টিকে থাকা, আসলেই কি আমাদের অস্তিত্ব এর কোন মহান মানে আছে? মানুষের এই চিরন্তন হতাশা দূর করতেই যুগে যুগে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আরোপিত মতবাদ। আর অস্তিত্ব সংকটে ভোগা বুদ্ধিমান মানুষ আঁকড়ে ধরেছে সেইসব মতবাদ কে নিজের সিমাহীন হতাশা দূর করার তাগিদেই। দুনিয়ার বুকে হতাশ আর lঅস্তিত্ব সংকটে ভোগা মানুষের জন্য খুবই চমৎকার একটা মতবাদ হচ্ছে ধর্মীয় মতবাদ। এখানে মানুষ কে অমর করে রাখবার লোভ দেখানো হয়, বলা হয় একবার মাত্র মৃত্যু হবে আর তারপর আছে অনন্তকালের জিবন যার কোন শেষ নাই। এই একটা কথাই মনে হয় আব্রাহামিক ধর্ম গুলো পৃথিবী ব্যাপি ছড়িয়ে পড়ার মূল কারন। মানুষ অবচেতনেই তার নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় অনন্তকাল, যখন ধর্ম তার আধ্যাত্মিকতার বানী নিয়ে আর্বিভূত হলো তখনই মানুষ পেল সপ্ন নিয়ে বেচে থাকার মত অবলম্বন। একজন ঈশ...
ঈশ্বর নেই ঈশ্বর আছে
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
কৈশোরে তাবলীগ জামাতে জীবনের বেশ কিছু সময় খরচ করেছি , তখন আমাদের মুখস্ত কিছু বয়ান ছিল যা আমরা নিয়মিত চর্বিত চর্বন করতাম - " এই যে ভাই আম গাছে আম ধরে আম গাছে কাঠাল ধরে না , এইটা কার নেয়ামত ? অবশ্যই আল্লার , এই যে আমরা বাতাস থেকে নিঃশ্বাস নেই এইটা কার নেয়ামত , অবশ্যই আল্লার , তো ভাই যে আল্লাহ আমাদের রসনা তৃপ্তির জন্য এইসব ফলমূল দিচ্ছেন বাতাস দিয়ে আমাদের বাচিয়ে রাখছেন , আমাদের কি উচিত না সেই আল্লার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা , তো ভাই আসেন আমরা সেই রাব্বুল আলামিনের হুকুম আহকাম মেনে চলি , আমাদের কে ঈমান আনতে হবে সেই মহান মালিকের প্রতি যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন ,আর ঈমান বা বিশ্বাস অর্জন করতে হলে আমাদের কে মেহনত করতে হবে , নবীর সাহাবাগন ইমান অর্জনের জন্য মেহনত করেছেন আমাদের ও তা করতে হবে এবং সেই সাথে জারী রাখতে হবে দাওয়াতের কাজ যা নবীওয়ালা কাজ , এই কাজের সওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত আমলনামায় লেখা হতে থাকবে তো ভাই আসুন আমরা ঈমান কে মজবুত করতে জামাতে সময় দেই এবং সেই সাথে মানুষ কে ডাকি বিশ্বাসের পথে !" আহ কত ভালো লাগতো তখন এইসব কথা , তখনো বুঝিনি যে যেখানে বিশ্বাসের শুরু সেখানেই জ্ঞানের সমাপ্তি ।অথ্য...
একজন কাইয়ুম চৌধুরী ও আমাদের দৈন্যতা
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
গতকাল রাতে চিত্রশিল্পি কাইয়ুম চৌধুরী দেহত্যাগ করলেন ।বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উত্সবের চতূর্থ রাতে তিনি মঞ্চে ঢলে পড়েন , পরবর্তীতে হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষনা করেন । তিনি বক্তৃতা করে নেমে গেলে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান যখন বক্তৃতা শুরু করবেন ঠিক তখনই তিনি ফিরে এসে বলেন আমার আরেকটা কথা বলার ছিল তারপরেই তিনি মাথাঘুরে পড়ে যান । কি বলতে চেয়েছিলেন তিনি ? জানা হবে না আর কখনই । চিত্র শিল্পিরা গন মানুষের মাঝে পরিচিত হন খুবই কম । অনেক বিখ্যাত চিত্র শিল্পিকেই এই সত্য টা স্বিকার করে নিতে হবে । আমাদের কাইয়ুম চৌধুরী গনমানুষের মাঝে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত ছিলেন । একজন শিল্প সাহিত্যের খোজ না রাখা বাঙালীকে যদি একজন চিত্র শিল্পির নাম বলতে বলা হয় তবে সে সবার আগে কাইয়ুম চৌধুরীর নামই নিবে । সেদিন আপিসে উইন্ডোজ পেইন্টে গিয়ে রং নিয়ে ঘষাঘষি করছিলাম যদিও ছবি আকার যোগ্যতা এবং জ্ঞান কোনটাই আমার নেই , এক সহকর্মী পেছন থেকে এসে বললেন আরে আপনি তো পুরো কাইয়ুম চৌধুরীর মত ছবি আকছেন , তার মন্তব্যেই বুঝলাম সে কখনো কাইয়ুম চৌধুরীর কোন ছবি দেখে নি অথচ সে চিত্র শিল্পি বলতে কাইয়ুম চৌধুরীকেই বোঝে । সকাল...
চিন্তা
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আজ কদিন ধরেই ভাববার চেষ্টা করছিলাম চিন্তা কি ? মননশীল চিন্তাই বা কাকে বলে ? কিন্তু চিন্তা করা নিয়ে আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই , সাহিত্যে আমার পড়াশোনা খুবই অপ্রতুল যা পড়েছি সবই হরর অথবা ফিকশন , তাই সেভাবে কখনোই মনের ভেতর চিন্তার দর্শন টাকে স্থান দিতে পারিনি ,হ্যা প্রচুর ভাব নিয়ে নিজেকে চিন্তক প্রমানের হাস্যকর চেষ্টা হয়ত করেছি , কিন্তু তারপরেই আসন্ন ভোরে দু টুকরো রুটি সংগ্রহের চিন্তায় ভূলে গেছি সব , আচ্ছা একটা ব্যাপার কি কেউ খেয়াল করেছেন ? আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে সৃজনশীল সাহিত্য অথবা দার্শনিক চিন্তা বা গবেষনা আশংকা জনক ভাবে কম , বেশির ভাগ মানুষই সাময়িক আবেগে কিছুক্ষনের জন্য জ্বলে উঠলেও তারপর আবার দীর্ঘদিনের জন্য শীত নিদ্রায় যেতে হয় এর একমাত্র কারন হতে পারে আর্থিক নিরাপত্তার অভাব , আমাকে রাতদিন শুধু অর্থোপার্জনের চিন্তা করতে হচ্ছে তাই আমি আমার সন্তান কে অর্থোপার্জনের উপযোগী করে মানুষ করছি , তার ভেতরে সৌন্দর্য উদারতা প্রকৃতির প্রতি আবেগ এইসব ব্যাপার গুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছি যেমনেই হোক অর্থোপার্জন করে বেচে থাকতে হবে , ঠিক আমাদের শাসক গোষ্ঠিও এই চিন্তাহীন বোধহীন জনগোষ্ঠি তৈরিতে বেশ ...