পোস্টগুলি

আমাদের এই বহমান সময়ে আমরা আসলে কে?

আমাদের এই বহমান সময়ে আমরা আসলে কে? এই যে আমাদের চেতনা, সবার থেকে আলাদা হবার এই যে প্রেরণা, কেন? কেউ মালা কেউ তসবি গলে তাইতে তো জাত ভিন্ন বলে -বলেছিলেন লালন। আবার সিলেটী কবি হাসন রাজা বড় আক্ষেপ করে বলে গেলেন "কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যের ও মাঝার।" এই যে আমাদের অস্তিত্ব, বহমান সময়ে খানিকক্ষণ টিকে থাকা, আসলেই কি আমাদের অস্তিত্ব এর কোন মহান মানে আছে? মানুষের এই চিরন্তন হতাশা দূর করতেই যুগে যুগে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আরোপিত মতবাদ। আর অস্তিত্ব সংকটে ভোগা বুদ্ধিমান মানুষ আঁকড়ে ধরেছে সেইসব মতবাদ কে নিজের সিমাহীন হতাশা দূর করার তাগিদেই। দুনিয়ার বুকে হতাশ আর lঅস্তিত্ব সংকটে ভোগা মানুষের জন্য খুবই চমৎকার একটা মতবাদ হচ্ছে ধর্মীয় মতবাদ। এখানে মানুষ কে অমর করে রাখবার লোভ দেখানো হয়, বলা হয় একবার মাত্র মৃত্যু হবে আর তারপর আছে অনন্তকালের জিবন যার কোন শেষ নাই। এই একটা কথাই মনে হয় আব্রাহামিক ধর্ম গুলো পৃথিবী ব্যাপি ছড়িয়ে পড়ার মূল কারন। মানুষ অবচেতনেই তার নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় অনন্তকাল, যখন ধর্ম তার আধ্যাত্মিকতার বানী নিয়ে আর্বিভূত হলো তখনই মানুষ পেল সপ্ন নিয়ে বেচে থাকার মত অবলম্বন। একজন ঈশ...

ফেসবুক স্ট্যাটাস ৩১ ডিসেম্বর

চেয়ে দেখো দূর নক্ষত্রবিথী পানে তোমার হৃদয়ের উত্তাপ ঠান্ডা হিম ছড়িয়ে দেয় পুরোটা পৃথিবী জুড়ে আর মানুষেরা ভালোবাসে এবং গাঢ় অন্ধকারে মিশে যায় পরস্পর তারপর পৃথিবীতে রাত নেমে আসে আর এইসব অন্ধকারে কুয়াশা বিছিয়ে রাখে তার হিম কুচকানো হাত

ঈশ্বর নেই ঈশ্বর আছে

কৈশোরে তাবলীগ জামাতে জীবনের বেশ কিছু সময় খরচ করেছি , তখন আমাদের মুখস্ত কিছু বয়ান ছিল যা আমরা নিয়মিত চর্বিত চর্বন করতাম - " এই যে ভাই আম গাছে আম ধরে আম গাছে কাঠাল ধরে না , এইটা কার নেয়ামত ? অবশ্যই আল্লার , এই যে আমরা বাতাস থেকে নিঃশ্বাস নেই এইটা কার নেয়ামত , অবশ্যই আল্লার , তো ভাই যে আল্লাহ আমাদের রসনা তৃপ্তির জন্য এইসব ফলমূল দিচ্ছেন বাতাস দিয়ে আমাদের বাচিয়ে রাখছেন , আমাদের কি উচিত না সেই আল্লার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা , তো ভাই আসেন আমরা সেই রাব্বুল আলামিনের হুকুম আহকাম মেনে চলি , আমাদের কে ঈমান আনতে হবে সেই মহান মালিকের প্রতি যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন ,আর ঈমান বা বিশ্বাস অর্জন করতে হলে আমাদের কে মেহনত করতে হবে , নবীর সাহাবাগন ইমান অর্জনের জন্য মেহনত করেছেন আমাদের ও তা করতে হবে এবং সেই সাথে জারী রাখতে হবে দাওয়াতের কাজ যা নবীওয়ালা কাজ , এই কাজের সওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত আমলনামায় লেখা হতে থাকবে তো ভাই আসুন আমরা ঈমান কে মজবুত করতে জামাতে সময় দেই এবং সেই সাথে মানুষ কে ডাকি বিশ্বাসের পথে !"  আহ কত ভালো লাগতো তখন এইসব কথা , তখনো বুঝিনি যে যেখানে বিশ্বাসের শুরু সেখানেই জ্ঞানের সমাপ্তি ।অথ্য...

একজন কাইয়ুম চৌধুরী ও আমাদের দৈন্যতা 

গতকাল রাতে চিত্রশিল্পি কাইয়ুম চৌধুরী দেহত্যাগ করলেন ।বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উত্‍সবের চতূর্থ রাতে তিনি মঞ্চে ঢলে পড়েন , পরবর্তীতে হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষনা করেন । তিনি বক্তৃতা করে নেমে গেলে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান যখন বক্তৃতা শুরু করবেন ঠিক তখনই তিনি ফিরে এসে বলেন আমার আরেকটা কথা বলার ছিল তারপরেই তিনি মাথাঘুরে পড়ে যান । কি বলতে চেয়েছিলেন তিনি ? জানা হবে না আর কখনই । চিত্র শিল্পিরা গন মানুষের মাঝে পরিচিত হন খুবই কম । অনেক বিখ্যাত চিত্র শিল্পিকেই এই সত্য টা স্বিকার করে নিতে হবে । আমাদের কাইয়ুম চৌধুরী গনমানুষের মাঝে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত ছিলেন । একজন শিল্প সাহিত্যের খোজ না রাখা বাঙালীকে যদি একজন চিত্র শিল্পির নাম বলতে বলা হয় তবে সে সবার আগে কাইয়ুম চৌধুরীর নামই নিবে । সেদিন আপিসে উইন্ডোজ পেইন্টে গিয়ে রং নিয়ে ঘষাঘষি করছিলাম যদিও ছবি আকার যোগ্যতা এবং জ্ঞান কোনটাই আমার নেই , এক সহকর্মী পেছন থেকে এসে বললেন আরে আপনি তো পুরো কাইয়ুম চৌধুরীর মত ছবি আকছেন , তার মন্তব্যেই বুঝলাম সে কখনো কাইয়ুম চৌধুরীর কোন ছবি দেখে নি অথচ সে চিত্র শিল্পি বলতে কাইয়ুম চৌধুরীকেই বোঝে । সকাল...

চিন্তা

আজ কদিন ধরেই ভাববার চেষ্টা করছিলাম চিন্তা কি ? মননশীল চিন্তাই বা কাকে বলে ? কিন্তু চিন্তা করা নিয়ে আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই , সাহিত্যে আমার পড়াশোনা খুবই অপ্রতুল যা পড়েছি সবই হরর অথবা ফিকশন , তাই সেভাবে কখনোই মনের ভেতর চিন্তার দর্শন টাকে স্থান দিতে পারিনি ,হ্যা প্রচুর ভাব নিয়ে নিজেকে চিন্তক প্রমানের হাস্যকর চেষ্টা হয়ত করেছি , কিন্তু তারপরেই আসন্ন ভোরে দু টুকরো রুটি সংগ্রহের চিন্তায় ভূলে গেছি সব , আচ্ছা একটা ব্যাপার কি কেউ খেয়াল করেছেন ? আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে সৃজনশীল সাহিত্য অথবা দার্শনিক চিন্তা বা গবেষনা আশংকা জনক ভাবে কম , বেশির ভাগ মানুষই সাময়িক আবেগে কিছুক্ষনের জন্য জ্বলে উঠলেও তারপর আবার দীর্ঘদিনের জন্য শীত নিদ্রায় যেতে হয় এর একমাত্র কারন হতে পারে আর্থিক নিরাপত্তার অভাব , আমাকে রাতদিন শুধু অর্থোপার্জনের চিন্তা করতে হচ্ছে তাই আমি আমার সন্তান কে অর্থোপার্জনের উপযোগী করে মানুষ করছি , তার ভেতরে সৌন্দর্য উদারতা প্রকৃতির প্রতি আবেগ এইসব ব্যাপার গুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছি যেমনেই হোক অর্থোপার্জন করে বেচে থাকতে হবে , ঠিক আমাদের শাসক গোষ্ঠিও এই চিন্তাহীন বোধহীন জনগোষ্ঠি তৈরিতে বেশ ...

স্টাটাস সমগ্র ১

##তোমাকে ছেড়ে আসতেই বৃষ্টিরা পাকড়াও করলো তোমার চোখের জল যেভাবে আটকে রেখেছিল তেমনিই আকাশের কান্না আটকে রাখলো তোমার কাছে , অনেক প্রেমিকাদের অশ্রু পেরিয়ে তোমার কাছে আটকে গেলাম একজন কবিকে তুমি প্রেমিক বানিয়ে ফেললে একি তোমার অহংকার নাকি আমার সমর্পন !! ##দূর ইথারের ওপাশে তোমার কন্ঠ এপাশের আমার রক্তের কনায় কনায় প্রতিধ্বনী তোলে আমি বোধহয় প্রথম পুরুষ যে প্রেমিকাদের চেয়েও তোমাকে বেশি ভালোবাসে ##যখন তোমার বুকে মাথা রাখি নাক ভরে যায় তোমার শরীরের সোদা গন্ধে বিশ্বাস করো প্রিয়া তখনই শুধু তখনই আমি ইবাদতের সুখ পাই , খুব রাত্রিতে তুমি যখন চোখ বুজে আছো গভীর সুখে আমি ঘর্মাক্ত শরীরে ক্লান্ত চাষা ঠিক তখনই আমি ইবাদতের সুখ পাই ,নারী তুমি আমার ইবাদত তুমিই আমার ইশ্বর ##কেটে যাচ্ছে চরম ঘোর ঠিক তোমার রাগমোচনের মত কেপে উঠছে শরীর , নারী তোমাকে ছাড়া একাকী পুরুষ বড়ই বেগানা , রক্ষে করো হে নারী আমার পুরুষ জন্ম সার্থক করো ! তোমার মন্দিরে এই চালচুলোহীন কবিরে ঠাই দিও ##রাত গভির হবে কেটে যাবে হাজার বছরের অন্ধকার তারপর আমরা আবার মানুষ হবো নকল মানুষ , সত্যিকারের মানুষেরা দৈত্য মারতে চলে গেছে ঠাকুরমার ঝুলি কাধে নিয়ে আম...

দেশ জাতি বিভক্তি : একটি ব্যক্তিগত পর্যালোচনা

কি নিয়ে লেখা যায় কোন টপিক খুঁজে পাচ্ছিনা। দেশে এত এত টপিকের ভিড়ে আমার লেখার মালমসলা হারিয়ে গেছে। এই দেশে এখনও যে বেঁচে থেকে শ্বাস নিচ্ছি, তাই তো মাঝে মাঝে বিশ্বাস হতে চায় না। কত রকমের বিভেদ যে আমাদের মাঝে -- গুনতে বসলে মহাকাব্যের সমান বড় হয়ে যাবে। নেতাদের রাজনীতির খেলায় আমরা বড় বেশি চুনোপুটী। নিজের পেটে ভাত যোগাতে এত বেশি ব্যস্ত থাকা লাগে যে, অন্য দিকে নজর দেওয়ার সময় থাকে না। আমাদের নেতারাও তাই চায় -- আমাদের মুখ বন্ধ রেখে তারা নিজের আখের ঠিকই গুছিয়ে নেয়। গত ৫মে হেফাজতের তাণ্ডবের পর থেকে লাশ ও হত্যা নিয়ে সংখ্যা তত্ত্বের খেলা খুব চলছে। আমরা হয়ত ফেসবুক ব্লগে খুব চিল্লাছি, কিন্তু আমাদের কথা কেউ পাত্তাই দিচ্ছে না। আমরা যতই প্রমাণ করি বাঁশের কেল্লা ও জামাতের বিভিন্ন পেজের মুনাফিকি ও মিথ্যাচার, তারা কিন্তু এসবকে পাত্তা না দিয়ে তাদের কাজ করে যাচ্ছে। তাদের টার্গেট গ্রুপ গ্রামের ও শহরের খেটে-খাওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ, যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে না। দিনশেষে টিভির সামনে বসে অথবা চলতি পথে চায়ের দোকানে এক ঝলক খবরই তাদের ভরসা দেশ সম্পর্কে খবর রাখার জন্য। আর এই মানুষগুলোকে টার্...